আলী সিদ্দিকী'র গুচ্ছ কবিতা

মানুষ এবং প্রকৃতি

অপার আনন্দ বলে কিছুই নেই
প্রকৃতির
মানুষ
প্রত্যাশার রঙ দিয়ে ছবি আঁকে
বাতাসের যেমন কোন রোগ নেই
আকৃতির
ভাবুক মানুষ
সর্বদা নিজ ভাবনায় ডুবে থাকে।

সংখ্যার প্রেম মানুষের সীমাহীন
অন্তহীন
মানুষ
অহেতুক প্রেমের জন্যে খুন করে
প্রকৃতি প্রেমে থাকে গভীর নিমগ্ন
নির্মোহ
লোভী মানুষ
সৃষ্টির নামে ধ্বংসযজ্ঞে গিয়ে মরে।

মানুষ প্রতিপক্ষ মানুষের চিরকাল
অর্থহীন
কূপমণ্ডূক
নিজেকেই নিজের প্রতিপক্ষ ভাবে
প্রকৃতি থেকে মানুষ কিছু শেখে না
অহংবোধ
আত্মপরতা
মানুষ বিকলাঙ্গ অজ্ঞানে- স্বভাবে।


দুঃখের রিসোর্ট

অপরাহ্ন
সাঁকো এড়িয়ে
গড়িয়ে পড়েছে এঁদো জলে
পুরনো চাঁদের জং খসে খসে পড়ে
শহীদ মিনারে
এখানে ইতিউতি মুখর
মানুষের তোবড়ানো মুখ
চড়ুইভাতিতে মেতেছে মাতাল মেঘ
দুঃখের রিসোর্টে।


সেই অন্ধকার একাকার

(কবি জীবনানন্দ দাশ স্মরণে)

অন্ধকার ছিন্ন করে আজো হয়নি দাঁড়ানো
সূর্যের মুখোমুখি-সে এখন আস্ত কালাপাহাড়
পিচ্ছল পাথুরে অন্ধকার সাঁতরে সাঁতরে
হাজার লক্ষ মানুষ আলিঙ্গন করেছে অন্ধ গহবর।

মানুষেরা এখন মরা মাছের চোখ নিয়ে অহর্নিশ
হু হু করে হননের হলাহলে করছে হা-হুতাশ
তারা কখনো ভালোবেসেছিলো কিনা গেছে ভুলে
মুছে গেছে স্মৃতি থেকে হৃদয় বিলানোর ইতিহাস।

অন্ধকার আমাদের মাঝে তুলেছে এক দেয়াল মগজের কোষের
ভেতরের আলোরাও গেছে নিভে যতোই খুঁজি তোমার হাত-
পাই না কোথাও পৃথিবী আজ জর্জরিত অন্ধকারের শাণিত জিভে।


পুনর্জন্ম

তোমার প্রতিটি মৃত্যুদিনে
তোমার জঠরে আবার ফিরে যাবার দিন
নিকটবর্তী হয়ে ওঠে, মা!

ভ্রষ্টাচার

তোমার জিভ যদি কথা বলতে ছটফট করে
জিভটা কেটে ফেলা হবে-এটি মধ্যযুগের প্রথা
তোমার হাত যদি খুব বেশি প্রতিবাদমুখর হয়
রিমান্ডে নয়তো প্রকাশ্যে কেটে নেবে আঙুল
এটা সিভিল গণতান্ত্রিকতা।

পরাজিত জেনেও তোমাকে জয়ধ্বনি দিতে হবে
নয়তো তোমার ধ্বনি-প্রতিধ্বনি ঢোকাবে পোঁদে চামড়াটা
গন্ডারের হলেই সয়ে যাবে দু'চার ঘা তারপরও দেশ জনগণ
শোষণ যদি হয় বড়ো
চামড়া ছিলে শুকাবে ঠাঠা রোদে।

এমনই বিধিবদ্ধ নাগরিক অধিকার আজকাল গণতন্ত্রের
মুখোশে ধুমসে বিকোচ্ছে স্বৈরাচার বিশ্বজুড়েই ফোপরদালালি
হয়ে উঠেছে রমরমা বুদ্ধিজীবীরা বিকোচ্ছে টনে টনে শোষণের
বড়ি
ছ্যাঁ, ছ্যাঁ! বাংলায়ও চলছে এই ভ্রষ্টাচার!

Post a Comment

0 Comments