সুলতান স্যান্নাল এর কবিতা



দূরান্তে


একটি অন্যমনস্ক পাখি কতদূর শূন্যে উড়ে বলে তুমি ভাবো? কীরূপে বিষাদের কুড়ি ফুঁটে গেলে-বিপন্নতায় ঝরে হলুদ পাতা? কতটা মোহহীন হলে ব্যথার ভারে রিলকের বুকে স্রোত?

আরও কত দুরান্তে আমাদের বসবার ঘর? কোথায় তোমার ভূমি? চাঁদ গলে গেলে, তুমি পুড়ে গেলে- আমার কতটুকু ভুল?


গ্রেট ডার্কনেস
 

ইনলাইটেন ঘাতিকা নেচে নেচে ঘেমে যায় ইজম ঢলনে, এই বনোজাত ইনসমনিয়ার আলপনা আঁকে এক উদ্যানপালক নিরালায়।

 

আর, এখানে তুমি আজ উদ্বেজয়ীতার মতো, তাড়াতড়ি, আলাভোলা। তোমার পড়শিরাও জেনে গেছে কেন জলছত্রি জারজার। কেন রূপের দাগ ধরে অরূপ সন্ধান!

 এই দিকে পরোয়ানার ড্রাগন নিয়ে যারা ড্রিবলিং খেলছে তাদের উঠোনে আমিও নির্বিকার চিরকাল। আমরা ক্রমেই ডুয়েল, দেব আর দেবারি!

ইজমি ঘাতিকা, এখানে শেষটা বরাবর অমীমাংসিতই, এখানে জীবন বড় তৃষার আর সুদূরে পরার্থের ডার্কনেস, গ্রেট ডার্কনেস শুধু!



এসো মর্ম জাগায়


কতটা দূরে গেলে নিগূঢ় মায়া
আশা রামধনু এক পরমকবির?

পলক ফেরাও না চন্দ্রাবতী
রাধিকার প্রেমে পড়ার আখ্যান বলছিনা
এক তিয়াসের মান ভাঙানো উৎস্বর্গ গানের কথাও নয়।

এটা সেই গৃহ সন্ন্যাসীর আরচালা
ঘোরদোরের ছয় দরোজার গল্প
যেখানে পোষ না মানা স্মৃতি আছে
গহীন গীত কলা আছে।

সেখানে যাবে তুমি
মর্ম জাগাতে?


সংসার


মেয়েটির নাম বিশ্বাস'
ছেলেটির ' সংশয়'

তারা দুজন দুজনার
চোখের জলের রং চিনতে পারে
চোরাবালিতে বসে রাঁধে, খায়, ঘুমায়

তাদের জনম জনমের সংসার!


নৈঃসঙ্গের কনক


এই ঘোরলাগা হারমোনিয়ামের সুরে নিজের গায়কী ভুলে গানে তুমি জড়িয়ে ধরেছো যাকে, সে শুধু কুহুক আর দ্রুতগামী মেঘ, কেবলি সে সমুদ্রের আত্মহত্যা দেখে, কেবলি সে কুড়ায় নুন, অন্তরালে তার ক্রুদ্ধ গর্জন!

আর, আমি ক্ষনিকের সখা, নৈঃসঙ্গের কনক,অনন্ত সুর বিয়োগে শুধু রিক্ত বর্ণের হীরক আঁকি, আমার খিদে পেটের বেমক্কা নেশা, ঝুকে পরে বমি করতে করতে খিরকি দরজা আউজে দিয়ে অনিশ্চিত দাঁড়িয়ে আছি রোজ!

আমাদের অতিদূরে, চুপচাপ স্থিতধী দাঁড়িয়ে গা শুকাচ্ছে হাঁস, একটা মরণাপন্ন হাঁস!



দূর বৃক্ষের ঝঞ্জা


আজ, এক অদ্ভুত নিরাময় রহিত নিঃসঙ্গতা। দূরে নক্ষত্ররা একে একে খসে পড়ছে জলে। আজ, নিজেকে আমার ভারী মনে পড়ছে !

না, প্রশ্ন করোনা, দ্বিধাও নয়। শুধু ব্যথাতুর বুকের সঞ্চিত অন্ধকে কয়েক ঝলক আলো দেখাও। শৈশবের ঘুঘু ধরা দুপুর, গুড্ডির সুতো, ভুলের বুদ্বুদ, যত ভ্রান্তি আদি অন্ত নিজের করে নাও। আয়নায় পরখ করে নিজেকে, জীবনকে না বোঝার যন্ত্রনায় দেখতে দাও। ভাবতে দাও, পৃথিবীতে কেন প্রতিদিন ফুল ফোটে। প্রজাপতিটি কোথা হতে উড়ে আসে। মিছেমিছি কেন শিকারীর সাথে তুমি শিকারে যাও।

আজ, দূর বৃক্ষে ঝঞ্জার শব্দ , আকাশে আচরের দাগ। আজ, বড় বিষণ্ণ ভেতরের শেকড় বাকর!

Post a Comment

0 Comments