আবদুর রাজ্জাকের কবিতা



একটি আপেল চক্রের দিন ও রাত্রি


একটি আপেল চক্র দিন ও রাত্রির ভেতর, বিরামহীন
সব যেন গ্রীষ্মকাল, ঋতুচক্র আবিষ্ট হলেও
বিরহে রচিত পরাগ
শরীরে ক্রমশ স্ফীত হতে থাকে।
শীত প্রস্তরে শুষ্ক হাওয়া, উষ্ণতার গান করি আমরা
শৈশবে যে আমাকে ভালোবাসা শিখিয়েছিলো
তার ভেতরেই দেখেছি প্যারাবল লাইফ।

প্রকৃতির নানারূপ, আমাদের মোহকাল অতিক্রান্ত
হওয়ার আগে অনেক ক্রিয়াপদের ব্যাবহার,
কেটে যায় কার্পাশ মেঘ।
বেশীদিন বাঁচবো না বলে অনেকেই শুভকামনা পাঠিয়েছে,
আমি তাদের ধ্বংস কামনা করেছি।
মনোহর দিনগুলি জবা গাছটি মনে রেখেছে,
আমি বিরানে গেলেও বেলোয়ারী দিনগুলো রয়ে যায় শীতলাবণ্যে।

সুখ আমার অনিবার্য নির্যাস, পৃথিবীর দুই প্রান্ত থেকে
দু’জনাই বুঝতে পারি আগামী দশ বছর পর
আমার জেল্লা কী এইরূপ থাকবে?
ব্যর্থতার দায়ভার আমাকেই দিও, বিস্ফার হলেও মোমজ্বালিত দাহ
আমাকে পোড়াবে না।
আপেলচালিত ছুরিকার ধার গাজিপুর যাবে, বৃদ্ধাশ্রমে।
নড়াইলে যাও তিতলী ফুলের সৌরভ তোমার সঙ্গেই যাবে।

উম্মে সালমা!
আমরা আমাদের কখনই ভালোবাসি নাই।


সূর্যের সহস্রশীসে ফুল কথা বলেছে


কতোটুকু পেরেছি দিতে আর কতটুকু দিতে না পেরে——
নিশ্চয়ই জানো, রোববার কোনো সুসংবাদ বয়ে আনে না।
যদিও তোমার মুগ্ধতার কারণে পাথরে পরিণত হয়েছি,
ধূলায় লুটিয়ে পড়েছি আর
আমার গোপন মানচিত্রে তোমাকেই এঁকেছি, নিখুঁত।
দহন দিলে একা হয়ে, খুব একা হয়ে, খুব নরম হয়ে, যা-নয়
তা-ই হয়ে বললে: খেলবে তুমি আর
গোল দেবো আমি!

আমি তোমার একাধিক প্রতিচ্ছবি ও ছায়া, আমাকে দেখে
অন্য কেউ কাঁদছে কোথাও।
রূবি আপা অনন্তকাল ধরে নিমজ্জিত নদে,
এই ক্ষণচিহ্ন রোকেয়া আপার মুছে দেবো কীভাবে?
দূরে নিঃসঙ্গ হয়ে আছে নিঃশ্ব বেড়াল,
অহেতুক ঐশ্বর্য তরঙ্গ, প্রবণতাহীন, বন্ধনহীন অয়োময়।

তরঙ্গকালের ধরণ আলাদা, তুলনাই হয় না, সিল্কের চোখ,
মসৃণ রোদ, নদীপাড়ে গোঠের রাখাল,
বক্ষে বিপুল কামিনীগণ।


মানুষ কখনো একা থাকে না


অদ্ভুত ভালোবাসা, কোথাও ছায়া নেই, মৃত্যুর মাঝখানে দাঁড়ায়ে
ডাকলাম: বাবা! ‘বাতাসে মানুষ পোড়ার গন্ধ।’
বাবা ফিরেও তাকালেন না, বললেন: এসব প্রতিদিনের ঘটনা।

আনন্দ দশগুন বেড়ে যায়, ইচ্ছে তোমাকে নিয়ে বসবো কোথাও,
কোন্ বৃক্ষের উপর ভরসা করেছি? কে আমাদের আখ্যান লিখেছে!
সন্ধ্যায় আকাশ দু’ভাগ হয়ে যায়, বনে বসন্ত আসে।
সুখের দেশে আমরা কোনো নির্জন জায়গা খুঁজে পাই না,
কিছু বেদনা তো থাকেই, কিছু ঝরেও যায়, সেগুলো কুড়োবার
লোক থাকে না।

স্তব্ধতা আমার ভালো লাগে, তুমি যখন স্তব্ধ হয়ে থাকো,
আমার খুব ভালো লাগে, আমি কী তোমাকে দুঃখ দিয়েছি!
বসন্ত এলে গান হবে, না এলে হবে না। এমনটা হয় না।
কাননকে বললাম: ভালোবাসা শিখেছো!
কিশোরী কিছুই বলে না, শুধু হাসে।

হয়তো বৃক্ষে বৃক্ষে কেঁপে ওঠে এক মুখর বসন্তনারী।


বিশ্রাম শেষে অনেক শাদা পড়ে আছে মাঠে

একটি আপেল চক্র ফুল ও ফলের ভিতরে, বিরামহীম সব যেন গ্রীষ্মকাল, ঋতুচক্রে আবিষ্ট হলেও বিরহে রচিত পরাগ শরীরে ক্রমশ স্ফীত হতে থাকে। শীত প্রান্তরে শুষ্ক হাওয়া, উষ্ণতার গান আমরা করি নাই। শৈশবে যে আমাকে ভালোবাসা শিখিয়েছিলো তার ভিতরেই দেখেছি প্যারাবোল লাইফ। প্রকৃতির নানা রূপ, আমাদের মোহকাল অতিক্রান্ত হওয়ার আগে অনেক ক্রিয়াপদের ব্যাবহারে কেটে যায় কার্পাশ মেঘ, কেউ বাঁচবে না বলে অনেকে শুভকামনা পাঠিয়েছে। আমিও তাদের ধ্বংস কামনা করেছি, মনোহর দিনগুলি জবা গাছটি মনে রেখেছে, আমি রংপুর গেলেও বেলোয়ারী দিনগুলো রয়ে যায় শীতলাবণ্যে। সুখ আমার অনিবার্য নির্যাস। পৃথিবীর দুই প্রান্ত থেকে দু’জনাই বুঝতে পারি--- আগামী দশ বছর পর আমার জেল্লা এইরূপ থেকে যাবে না, ব্যর্থতার দায়ভার আমাকেই দিও, বিস্ফার হলেও মোম জ¦ালিত দাহ তোমাকে পোড়াবে না, এরকম না ভাবাই ভালো আপেলচালিত ছুরিকার ধার গাজিপুর যাবে বৃদ্ধাশ্রমে, নড়াইল যাও তিতলি ফুলের সৌরভ তোমার সঙ্গে যাবে। উম্মে সালমা! আমরা আমাদের কখনই ভালোবাসি নাই।

মানুষ কখনো একা থাকে না

অদ্ভুত ভালোবাসা, কোথাও ছায়া নেই, মৃত্যুর মাঝখানে দাঁড়ায়ে ডাকলাম: বাবা! ‘বাতাসে মানুষ পোড়ার গন্ধ’ বাবা ফিরেও তাকালেন না, বললেন: এসব প্রতিদিনের ঘটনা। আনন্দ দশগুন বেড়ে যায়, ইচ্ছে তোমাকে নিয়ে বসবো কোথাও, কোন্ধসঢ়; বৃক্ষের উপর ভরসা করেছি, কে আমাদের আখ্যান লিখেছে! সন্ধ্যায় আকাশ দু’ভাগ হয়ে যায়, বসন্ত আসে। সুখের দেশে আমরা কোনো নির্জন জায়গা খুঁজে পাই না, কিছু বেদনা তো থাকেই, কিছু ঝরেও যায়, সেগুলো--- কুড়োবার লোক থাকে না, কোনো। স্তব্ধতা আমার ভালো লাগে, তুমি যখন স্তব্ধ হয়ে থাকো, আমার খুব ভালো লাগে, আমি কী তোমাকে দুঃখ দিয়েছি? বসন্ত এলে গান হবে, না-এলে হবে না! এমনটা হয় কখনো! কাননকে বললাম: ভালোবাসা শিখেছো! কিশোরী কিছুই বলে না, শুধু হাসে। বৃক্ষে বৃক্ষে কেঁপে ওঠে মুখরা এক বসন্তনারী।

একটি অসমাপ্ত দিনের কথা
কখনো চাঁদ, কখনো কবিতা, একভাবে জেগে থাকে আকাশ, অফুরন্ত শৈশব, তুমি কেনো সেসবে দেয়াল তুলেছো! নারকেল পাতার চিরল বাতাস ---- প্রহরে প্রহরে তোমার ধানখেতে পাখি হয়ে উড়ি, সারাদিন উড়ছি শকুন, একা আকাশে, কবুতর হলে দলছুট না-হয়ে তোমার কুটিরের প্রতিধ্বনিতে থাকতাম, প্রতিটি চাওয়া---অদম্য আত্মার, তুমি তার ভেতরে এক জীবিত ভাস্কর্যমুখ। আজীবন তা-ই শুনেছি, বৈধ অবৈধ সকল ঐশ্বর্য আমাকে দিয়ে তুমি এখন প্রাণযোগীনি দুপুরের দাগ। তোমার চোখে আমার ঠোঁট, প্রশ্রয় পেয়ে কী যে করেছি সেদিন! আগুনের ফোয়ারা--- সীমা লঙ্ঘন করিনি হিম গুঞ্জন রেখার।

বায়ান্ন বছর আগের এক কিংবদন্তী

তুমি না-থেকে, জানালার শার্শি গলিয়ে বেলুন হয়ে, তুমি যা দেখো আমি সেই আকাশের কিছুই দেখি না। অপূর্ণ রয়ে যায়, কান্নার রোল, শিহরিত স্বপ্নের হাঁস নদীর শিয়রে বসে মৃতপ্রায় নদীটিকে ভাবে। অখ- ভাসানে শীতার্ত সন্ধ্যার গান, সমুদ্র যাপনে নদীর প্রাণময় রূপগহনে এ বড় বুনোঘাস, অনিত্য বেদনায় আমার খসখসে ত্বক খাঁ খাঁ করে। তুমি লালাভ লাল ঘূর্ণীয়মান। ডিম ফেটে, সমুদ্র ফেটে, আগ্নেয়গিরি নীচ থেকে ফিরে, আকাশ দু’ভাগ করে তুমি আমাদের স্বাধীনতার দরজা খুলে দিলে। সন্ধ্যাকাল ডুবে যায় কুসুম, ডুবে যায় সকল ভ্রম, পাখির পালকে---- ছায়াঘন ঈর্ষার আগুন, হৃদস্পন্দনে, মুথা ঘাসের ভেতরে, শিশিরে ভেজা পা দু’খানা তোমার, অরণ্যসবুজে হরিণ যাবেই, হায়! ক্ষুধার অন্নে অনন্য সবুজ তাকে অহরহ ডাকে।

Post a Comment

0 Comments