ডার্ক ম্যাটার
জীবনের চিত্র এঁকে স্থির হয়ে গেছে ক্যামেরা
সাঁটল দ্রেনে জামা হাতে নাচছে যুবকের দল
দূরে ডেকে যাচ্ছে শেয়াল
আর এখানে কিছু মানুষ ভীষণ বশংবদ।
পাতা থেকে গড়িয়ে পড়ছে রক্ত
হাত বন্ধ হয়ে আছে নিভভতে
জামার হাতায় পড়ে থাকা অসম্পূর্ন কারকাজ।
ডেকে ক্লান্ত কাকেদের মাতাল আস্ফালন
দুটো টিকটিকির সঘন আলিঙ্গন।
চেনা পথ- বৃষ্টির শব্দ তুলে হেঁটে যায় দীর্ঘ পা
খুব বেশী দূর নয় ধোঁয়া ওঠা কাপের অভিসার
দরজার চৌকাঠে ব্যস্ত নীলাভ আলোরেখা
মীন-গন্ধ ছেয়ে আছে আলনার আশপাশ ।
সুর ছায়া ও শব্দ
শীতল ভোরের মত জেগে উঠছে ঘুম
অন্ধকার জাগেনি তখনও ।
কেবলই মৃত আর অমৃত
সুধাপানে মত্ত ছিল ক্ষণ । তখনই টুপ করে
ঝরে পড়ল হৃদয়।
অন্তরের মধ্যে ছিল যা
তাকেই কষে আঘাত করেছে কিছু।
এখনও ধরা দেয়নি যা, হয়ত ধরা হবেওনা আর ।
তবুও জেগে উঠছে চোখ, হাত, পা
-সব।
জেগে উঠলে কথা কইবে সে,
যেন অনেককাল
অনেক আগের থেকেই এভাবে উচ্চারণ করছে শব্দ।
শব্দ ছড়িয়ে পড়ছে সুরের ব্্জনায়
বাজময়;
- আপন পরিমন্ডলে ব্যাপৃত অপত্রিয়মান ছায়া ।
দূরে ভেসে যাচ্ছে সব- সুর, ছায়া ও শব্দ
দেখে জেগে উঠছে ঘুম,
চোখের পাতা কেঁপে যাচ্ছে বরাবর
আলিঙ্গনে এগিয়ে আসছে অন্ধকার ।
হায় অন্ধকার তুমি কেন মহাকাল হয়ে যাও।
অভিজ্ঞান
কৃষ্চুড়া গাছটি ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে আকাশে
যেন শুত্রগ্রহ, উল্লম্ব ও চিন্তানত।
গাছেদের ভাষা জানা নেই, তবু
বাতাসের আড়ালে এক ক্ষীণস্বর- প্রশান্তিময় ।
এখানে বসবে বলে এখনও ঠায় দাঁড়িয়ে আছে
গভীর গর্জনে নিনাদের বেজে ওঠা সপ্তক
তাকিয়ে আছে উড়ে যাওয়া অরপ্যানীর দিকে ।
দেখি এখনও কৃষ্চুড়া ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে শীতলতায়
মেঘ এসে ঘিরে ধরেছে তার ডাল ও পাতা
কালোতে কালোতে মিশে যাচ্ছে প্রাচীন ডাল ও মেঘ
বিদ্যুত কোন দূত নয়, ক্ষতকামি হয়ে বিধে গেল পাতার বুকে ।
দিগন্ত কেঁপে কেঁপে উঠে আসছে কান্নার জারিত কলরব
মোহিত মোহগ্রত্ততায় কোন নিপতিত সুর।
অবজ্ঞা
সব ফুল ও মৃত্যুদিন পাখিদের মত বসে আছে
হাওয়ার উজানে ভঙ্গিল ও সমান্তরাল
সোনালী ক্ষেত ও ফসলের মাঠ
কুহু ডেকে চলে যায়
বিলম্বিত আগামীর দিকে ।
আমাদের ভাটির বেলা
আমাদের উজানিত ঢল
ব্ুস্ততাহীন;
সময়ের খোপে খোপে শুধুই অন্তরাল
হয়ে আছে পলল।
বৃত্তি হতে পারে আদিম অথবা অপার্থিব
হতে পারে কৃমিময় শৈশব
শুধুই আজ্ঞাবহ হতে পারে পুরাতন ক্ষোভ
ঝাল ও ঝালায় বারবার ফিরে আসে
পশ্চাদ-পদক্ষেপে।
নিবিড় যাপন থেকে কথিত আক্ষেপ
তবু চেনা যায়নাই তারে
না চেনার অসীম অবজ্ঞায়।
সন্ধ্যা আরতি
সন্ধ্যা আরতি শোনা যাচ্ছে,
অথবা ভুল লিখে যাচ্ছে কলম
হাতে গন্ধ কিসের; গন্ধম ফল
এখনও জেগে আছে হাতের তালু
বড় বিষণ্ন লাগে-
কথা বলছে ঠোঁট - জেগে আছে নিখুঁত শব্দ
আলোকিত অবয়ব থেকে ভেসে আসছে দৃশ্য ।
কোনটা থেকে বেজে উঠবে নিউরণ?
সন্ধ্যা আরতি শোনা যাচ্ছে, দু্াপ্য কৌতুক
ঘন হয়ে আছে মান্দার গাছ ও পাতা;
এখনও জমে থাকে আশা।
লাভ নেই; সমুদ্রে গা ডুবিয়ে বসে দেখা পৃথিবীর শেষ ।
সন্ধ্যা আরতি শোনা যায়
কানের বধিরতা ধরিয়ে দেবে কে?
চোখটা আছে শুধু । পুরো ঘরটা দেখে সে
একটা ছাদ, কতক জানালা আর দরজা
এইতো-
দরজা ফাঁকা লাগে, ঘরে ফ্যান নেই
বাতাস একলা ঘোরে ।
শৃন্যের আর কোন ডাইমেনশন জানানেই।
সন্ধ্যা আরতি থেমে গেছে।
সাথে থেমে গেছে আরো কিছু ফিসফাস।
.png)
0 Comments