গাজী আলমগীরের গুচ্ছ কবিতা



চতুর্বিদ


একদিন বুকের ভেতরে সোনালি রোদ ফেলে সুখি হতে চাইলে
অন্ধকার তোমাকে ব্যথা দেয়
অন্ধকারে মিশে থাকে ভয় আর প্রতারণা-
তোমার হতে হবে ঠিকঠাক সফেদ হৃদয়।


আমি পাপ থেকে মুক্তি চাইলাম!
তুমি বললে-সুখি হওয়ার কতিপয় কলাকৌশল--.
বুকের পাঁজরে পাঁজরে সুঁচের ছিদ্রের মতো দাগ ফেলে বুক চিরে নিয়ে এলে প্রাণ
বললে-এ ব্যথা ফুরিয়ে দিবে রৌদ্রের সেবন।


আর তার বদলে তোমার বুকের উপর সাজিয়েছি চুমোর উদ্যান
দেহের উপর বসিয়েছি মিলনের কারবার


তুমি উজ্জ্বল হয়ে আমার ভেতরে দিলে মৃত্যুর রাগ
কিছুদিন গেলে--প্রাণ শুকিয়েছে চৈতালি রোদে,
তুমিও মুছে নিলে বাহিরে-ভেতরে রাখা অজস্র চুমোর দাগ।


চুড়ান্ত বঙ্গভঙ্গ


মালবিকা সান্যাল,
তুমি প্রতিদিন পূর্বদিকে হেঁটে বেড়াও; একা একা
রাষ্ট্র তোমার পক্ষে নেই আর ধর্ম তোমার পক্ষে নেই
হাটতে হাটতে পৌঁছেও যাও, দোপাথর
মানচিত্রেই বাঁধা নেই খুব
টেলিফোনের অলাপেও নেই বর্ডারগার্ডের কর্তৃত্ব
শুধু উচ্চপদের মানুষগুলো রাখছে যেনো সীমানার আব্রু
আমরাও ঠিক রাষ্ট্র এবং ধর্ম মতে-
পালিয়ে পলিয়ে বেঁচে থাকি বুকের ভেতর!


সহজ কোনো পথ নেই হাতে
আর্থিক এবং শাস্ত্রীয় সব জটিলতা
প্রতিমারাও যাচ্ছে ডুবে জলের অতলে
'আযান হয়ে পোঁছে যাবো' চতুর্দিকে উগ্র খবর


যেনো আমাদেরও খুঁজতে হবে একলা কোথাও নির্জন ঘর!


মালবিকা সান্যাল,
তুমি আসছো আর আমি আসছি!
হেঁটে হেঁটে আমরা দু'জন স্থির হয়েছি মৃত্যুর উপর!



পূরবী হালদার


গতকাল বাস থেকে নেমে গেছি ভুল ঠিকানায়
মনে থাকে বাসডিপো, স্টেশন ও গন্তব্য; নামার
অকস্মাৎ চোখে পড়ে, রাস্তায়
ব্যাগ-কাঁধে দাঁড়ানো, বিস্তর লাবণ্যে উজ্জ্বল পূরবী হালদার!


ততক্ষণে ঘন মেঘ কালো হয়ে গেছে
সন্ধ্যা নেমে গেছে দুপুরেই; মিছে
দাঁড়ায়ে থেকেছে মেঘ, আশেপাশে জমে গেছে কুৎসিত আধাঁর
যতদূরে দেখা গেলো, ছাতা মেলে দাঁড়ানো, বিস্তর
লাবণ্যে উজ্জ্বল পূরবী হালদার!


যেসব কথামালা ঠোঁট না জানে
আমরা তা বলে গেছি অতি গোপনে
কিছুক্ষণ থেকে গেছি আমরা যে যার
তার বাদে বুঝে নিয়ে যা কিছু বুঝার
"দেখা হবে" বলে গেছে পূরবী হালদার!


সাবরিনা মমতাজ


সাপের বিষে এমন উত্যক্ত আমি!
বনবাস জুড়ে তবু সচেতন, নিরর্থক
রিফু করানো জীবনব্যাপি-
নামাজ রোজা তুমি পুরনো চাঁদর।


মহর্ষির মেদুর ব্যথা নিয়ে এই চিরকাল
মনের সাথে মনের চলে উৎকণ্ঠা
তা নিয়ে এমন পেরিয়ে যাবো আয়ু
জন্ম জুড়েই তো মৃত্যুর আশঙ্কা!


মুক্তি


ঠিকানা বদলে ফেলেও,হাতে রাখো অজস্র টু-লেট বিজ্ঞাপন
নুতন শাড়ীর ভাঁজে গুঁজে রাখো ঘ্রাণ আর ফেরার সমন
আর যে পথে ফিরে গেছো, সে পথেই হেঁটে এসে মিছে কিছুক্ষণ-
ঠিকানাটা ফেলে গেছো, শরীর গৃহ তার মহকুমা মন।


তুমি হারিয়ে যাবার মতো কৌশলী তবু- এতোটা অবুঝ,
আমাকে বহন করে গোপন করো সব ঠিকানার খোঁজ।

Post a Comment

0 Comments