সহ্যাদ্রি - বন পাহাড়ের কাব্য
১.এসব আশ্চর্য সময়ের ভিতর তুমি
দিনটাকে পাখি বলে ডাকো, আর সেই
ছায়াঘেরা অরণ্যে ঘন হয়ে এসেছে বিকেল
সেইসব নিঝুম পথ বেয়ে নেমে গেছে
পাকদণ্ডী এক, নিচে সেই একা মেয়ে নদী হয়ে
বহুদূরে বয়ে চলে গেছে। এইসব দিন আর রাত্রির কাছে, দেখেছিলে তুমি
শুধু কিছু ঘুমের ভেতর, নির্জন সেই বনভূমি
হাওয়ার আওয়াজে দুলে ওঠে।
২.
অবিরল গান গেয়ে ফিরে গেছে রোদ
কুটিরে বনের ছায়া, অমলতাসের আলো মেখে
তুমুল পাহাড় এক বহুদূরে ফেলে চলে এসেছে শহর
এইখানে কূহকিনী বন, রেখেছে পরম দিঘি
শ্রান্ত গাছের নিচে দুপুরের সব কোলাহল
মুছে গিয়ে বনভূমি কথা বলে ওঠে
শহর অনেক দূর, এখানে বনের ফুলগাছে
দুপুরে নেমেছে চাঁদ, মাওয়ালি তরুণী এক
জল ভরে ফিরেছে কুটিরে।
৩.
সেইসব রাত থেকে গহিন হাতের ডাক
নিয়ে গেছে বনের গভীরে, দিগন্তে দুর্গপ্রাকার
রাতচরা হরিণীর জ্বলে ওঠে চোখ
আজ এই শহুরে জীবনে
মাঝেমাঝে চিঠি আসে সে বনের কথাগুলো লেখা।
৪.
এখনও অন্ধকারে ফেলে আসা সেইসব পথে
নেকড়ে দম্পতি এসে দাঁড়িয়েছে ওইখানে
পাহাড়ের বাঁকে, শ্মশানের গাছেরা সব দুলে ওঠে খুব
কিকউয়ী গ্রামের পথ, অশ্বত্থ আসন পেতে আছে।
অর্ধেক পৃথিবীর পারে
তোমার কথা শোনার জন্য উৎকর্ণ হয়ে থাকি
চারপাশে হেমন্তকাল
রোদ ফিরে যাচ্ছে পৃথিবী ছেড়ে
কথাগুলো বলবো যখন ভাবি
তখনই দেখি তুমিও আলোকবর্ষ পার হয়ে যাচ্ছো
তোমার সঙ্গে কথা বলতে আর শুনতে চেয়ে
ইস্তাম্বুলের ক্যাফেতে একটা বেলা বসেছিলাম একা
টাইগ্রিস নদীর মতো নীল চোখ এক মেয়ে
গলির মুখে দেখি জানলা খোলা আছে
লতানো একটা গাছ, কাঠবিড়ালি, একটা ওড়না দুলছে হাওয়ায়।
.png)
0 Comments